বৃহস্পতিবারের ট্রেডের বিশ্লেষণ
GBP/USD পেয়ারের 1H চার্ট
বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। ইউরো বিষয়ক নিবন্ধগুলোতে যেসব বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাউন্ডের মূল্যের এতটা শক্তিশালী বৃদ্ধির একমাত্র কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্যনীতি। এর বাইরে আর কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। যুক্তরাজ্যের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল বেশিরভাগ সময়েই হতাশাজনক ছিল, এবং মার্কেটে এখন শুধুমাত্র বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের ধারণা, এটি কেবলমাত্র বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা। এখন বিশ্বের বহু দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবং ট্রাম্প তার পক্ষ থেকে মার্কিন শুল্ক বাড়াতে থাকবে — যার কোনো শেষ নেই। 2025 সালে মার্কেট একাধিক বড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে। নতুন ট্রেডারদের বুঝতে হবে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার যেরকম বড় মুভমেন্ট দেখা গেছে, এই ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এবার স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে পারে। তাই সবসময় স্টপ লস ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট
৫-মিনিট টাইমফ্রেমে বৃহস্পতিবার অসংখ্য বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। যেকোনো সিগন্যাল থেকেই ট্রেড করা যেত। মুনাফার পরিমাণ নির্ভর করত আপনি কত সকালে ট্রেড করার শুরু করেছেন তার ওপর, কারণ রাতভর এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট অব্যাহত ছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ডলারের দরপতন অব্যাহত ছিল — অথবা বলা যায়, এখন ডলারের দরপতনে বিরতি নেয়া হয়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট আজকেও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে প্রত্যেক ট্রেডারকে নিজ দায়িত্বে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা এত উচ্চ মাত্রার অস্থিরতার মধ্যে মার্কেটে ট্রেড করবেন কিনা।
শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের কৌশল:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে অনেক আগেই GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ট্রাম্প এখনো ডলারের আরও দরপতন ঘটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর আমরা আর দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতার ব্যাপারে কোন পূর্বাভাস দিতে চাই না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো — লোয়ার টাইমফ্রেমে ট্রেড করা, যেখানে চলমান প্রবণতা এবং সেটির পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা যায়। তবে আমরা ট্রেডারদের সতর্ক করে দিতে চাই যে বর্তমানে ফরেক্স মার্কেট পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেওয়া যেকোনো পাল্টা পদক্ষেপও মার্কেটে বড় ধরনের মার্কেট মুভমেন্ট সৃষ্টি করতে পারে।
শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের সহজেই আরও ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে — বিশেষ করে যদি জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যে সামান্য পরিমাণ ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত থাকে এবং মার্কিন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে কম আসে। আমরা মনে করেছিলাম মার্কেটের ট্রেডাররা ট্রাম্পের শুল্ক সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে মূল্যায়ন করে ফেলেছে এবং এই বিষয়ে আগ্রহ হারিয়েছে — কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারো মার্কেটের ট্রেডারদের চমকে দিতে সক্ষম হয়েছেন।
৫-মিনিট চার্টে এখন গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডিং লেভেলগুলো হলো: 1.2502–1.2508, 1.2547, 1.2613, 1.2680–1.2685, 1.2723, 1.2791–1.2798, 1.2848–1.2860, 1.2913, 1.2980–1.2993, 1.3043, 1.3102–1.3107, 1.3145–1.3167, 1.3225 এবং 1.3272। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের চেয়ার জেরোম পাওয়েলের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে— যেখানে তিনি নতুন শুল্ক নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন — পাশাপাশি মার্কিন শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ফলে, মার্কেটে ঝড় অব্যাহত থাকবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
1) সিগন্যালের শক্তি: সিগন্যাল গঠন করতে কতক্ষণ সময় নেয় তার উপর ভিত্তি করে সিগন্যালের শক্তি নির্ধারণ করা হয় (রিবাউন্ড বা লেভেলের ব্রেকআউট)। এটি গঠন করতে যত কম সময় লাগবে, সিগন্যাল তত শক্তিশালী হবে।
2) ভুল সিগন্যাল: যদি ভুল সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট লেভেলের কাছাকাছি দুটি বা ততোধিক পজিশন ওপেন করা হয় (যা টেক প্রফিট ট্রিগার করেনি বা নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌছায়নি), তাহলে এই লেভেলে প্রাপ্ত পরবর্তী সমস্ত সিগন্যাল উপেক্ষা করা উচিত।
3) ফ্ল্যাট মার্কেট: ফ্ল্যাট মার্কেটের সময়, যেকোন পেয়ারের একাধিক ভুল সিগন্যাল তৈরি হতে পারে বা কোন সিগন্যাল নাও গঠিত হতে পারে। যাই হোক না কেন, ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেয়া উচিত।
4) ট্রেডিং টাইমফ্রেম: ইউরোপীয় সেশনের শুরু এবং মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ট্রেড ওপেন করা উচিত। এর বাইরে সমস্ত ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করতে হবে।
5) MACD সূচকের সিগন্যাল: প্রতি ঘন্টার চার্টে, শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য ভোলাট্যালিটি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রবণতার মধ্যেই MACD থেকে প্রাপ্ত সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে ট্রেড করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা একটি ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেল দ্বারা নিশ্চিত করা হয়।
6) নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হয় (5 থেকে 15 পিপস পর্যন্ত), সেগুলোকে সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
7) স্টপ লস: উদ্দেশ্যমূলক দিকে মূল্যের 15 পিপস মুভমেন্ট হওয়ার পর, ব্রেক-ইভেনে স্টপ লস সেট করা উচিত।
চার্টে কী কী আছে:
সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো হল সেই লেভেল যা কারেন্সি পেয়ার কেনা বা বিক্রি করার সময় লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে কাজ করে। আপনি এই লেভেলগুলোর কাছাকাছি টেক প্রফিট সেট করতে পারেন।
লাল লাইন হল চ্যানেল বা ট্রেন্ড লাইন যা বর্তমান প্রবণতা প্রদর্শন করে এবং দেখায় যে এখন কোন দিকে ট্রেড করা ভাল হবে।
MACD (14,22,3) সূচক, হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে, এটি একটি সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করে এবং এটি সিগন্যালের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা এবং প্রতিবেদন (সর্বদা নিউজ ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত থাকে) যেকোন কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের গতিশীলতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অতএব, এগুলো প্রকাশের সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে ট্রেডিং করতে হবে। চলমান প্রবণতার বিপরীতে আকস্মিকভাবে মূল্যের পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকতে মার্কেট থেকে বের হয়ে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি ট্রেড থেকে লাভ হবে না। একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ ও কার্যকর অর্থ ব্যবস্থাপনাই দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।