সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ:
শুক্রবার খুব বেশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রকাশনা নির্ধারিত না থাকলেও, এগুলো মার্কেটে নতুন ঝড়ের সূচনা করতে পারে। বুধবার সন্ধ্যায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সারা বিশ্বের সব দেশের ওপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেন, তখন থেকে মার্কেট এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সেই কারণেই, শুধুমাত্র এই একটি বিষয়ের ভিত্তিতেই আজ ডলারের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ননফার্ম পেরোল এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আলাদাভাবে বলার প্রয়োজন নেই — বিশেষত যদি প্রকৃত ফলাফল পূর্বাভাস থেকে ভিন্ন হয়। এই মুহূর্তে ডলারের একমাত্র ভরসা হলো একটি কারেকটিভ মুভমেন্ট। কিন্তু যদি আসন্ন প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আসে, তাহলে মার্কেটের ট্রেডাররা আগ্রহের সঙ্গে আবারও মার্কিন মুদ্রা বিক্রি করা শুরু করবে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:
ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করা এখন অর্থহীন। ডলারের দরপতন আরও কয়েক দিন চলতে পারে, এবং আমরা ট্রেডারদের পরামর্শ দেব যে গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও জোটগুলোর নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করুন — বিশেষ করে পাল্টা শুল্ক নিয়ে। ট্রাম্প বলেছেন, "বিচারের নামে বৈষম্য দূর করার" জন্য নেওয়া তার পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় কেউ কিছু করলে তা নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের মাধ্যমে কঠোরভাবে দমন করা হবে। সুতরাং যারা ভেবেছিলেন যে বুধবার ঘোষিত শুল্কই চূড়ান্ত এবং এসবের হারই স্থায়ী — তারা বড় ধরনের ভুল করছেন। এখন থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানো সব দেশের সঙ্গে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। বড় বড় দেশগুলো এখন পাল্টা শুল্ক আরোপের দিকে যাবে। আজ ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যও অনুষ্ঠিত হবে, যিনি নিশ্চিতভাবেই সর্বশেষ বাণিজ্য নীতিমালার বিষয়ে মন্তব্য করবেন।
উপসংহার:
এ সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের আবারও ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, কারণ ট্রাম্প আবারও ডলারের দরপতন ঘটানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এটি 2025 সালে মার্কেটে সৃষ্ট শেষ ঝড় নয় বলেই মনে হচ্ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো এখন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং বাণিজ্য প্রবাহে বহু পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অসংখ্য কোম্পানি ও সরকার নতুন মার্কেট খুঁজবে, তাদের কৌশল পুনর্গঠন করবে, এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি ও জোট গঠন করবে। এর ফলে আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রবাহে ব্যাপক পুনর্বিন্যাস ঘটবে। আর ফরেক্স মার্কেটে, সামনে আরও একাধিক ঝড়ের সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
1) সিগন্যালের শক্তি: সিগন্যাল গঠন করতে কতক্ষণ সময় নেয় তার উপর ভিত্তি করে সিগন্যালের শক্তি নির্ধারণ করা হয় (রিবাউন্ড বা লেভেলের ব্রেকআউট)। এটি গঠন করতে যত কম সময় লাগবে, সিগন্যাল তত শক্তিশালী হবে।
2) ভুল সিগন্যাল: যদি ভুল সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট লেভেলের কাছাকাছি দুটি বা ততোধিক পজিশন ওপেন করা হয় (যা টেক প্রফিট ট্রিগার করেনি বা নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌছায়নি), তাহলে এই লেভেলে প্রাপ্ত পরবর্তী সমস্ত সিগন্যাল উপেক্ষা করা উচিত।
3) ফ্ল্যাট মার্কেট: ফ্ল্যাট মার্কেটের সময়, যেকোন পেয়ারের একাধিক ভুল সিগন্যাল তৈরি হতে পারে বা কোন সিগন্যাল নাও গঠিত হতে পারে। যাই হোক না কেন, ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেয়া উচিত।
4) ট্রেডিং টাইমফ্রেম: ইউরোপীয় সেশনের শুরু এবং মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ট্রেড ওপেন করা উচিত। এর বাইরে সমস্ত ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করতে হবে।
5) MACD সূচকের সিগন্যাল: প্রতি ঘন্টার চার্টে, শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য ভোলাট্যালিটি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রবণতার মধ্যেই MACD থেকে প্রাপ্ত সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে ট্রেড করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা একটি ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেল দ্বারা নিশ্চিত করা হয়।
6) নিকটবর্তী লেভেল: যদি দুটি লেভেল একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হয় (5 থেকে 15 পিপস পর্যন্ত), সেগুলোকে সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
7) স্টপ লস: উদ্দেশ্যমূলক দিকে মূল্যের 15 পিপস মুভমেন্ট হওয়ার পর, ব্রেক-ইভেনে স্টপ লস সেট করা উচিত।
চার্টে কী কী আছে:
সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো হল সেই লেভেল যা কারেন্সি পেয়ার কেনা বা বিক্রি করার সময় লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে কাজ করে। আপনি এই লেভেলগুলোর কাছাকাছি টেক প্রফিট সেট করতে পারেন।
লাল লাইন হল চ্যানেল বা ট্রেন্ড লাইন যা বর্তমান প্রবণতা প্রদর্শন করে এবং দেখায় যে এখন কোন দিকে ট্রেড করা ভাল হবে।
MACD (14,22,3) সূচক, হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে, এটি একটি সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করে এবং এটি সিগন্যালের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা এবং প্রতিবেদন (সর্বদা নিউজ ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত থাকে) যেকোন কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের গতিশীলতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অতএব, এগুলো প্রকাশের সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে ট্রেডিং করতে হবে। চলমান প্রবণতার বিপরীতে আকস্মিকভাবে মূল্যের পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকতে মার্কেট থেকে বের হয়ে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি ট্রেড থেকে লাভ হবে না। একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ ও কার্যকর অর্থ ব্যবস্থাপনাই দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।