বেঞ্জামিন গ্রাহাম
মার্কিন বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদ বেঞ্জামিন গ্রাহাম ২০ শতকের প্রথমার্ধে ফিনান্সিয়াল মার্কেটে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে, যখন তিনি ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ের নীতিমালা তৈরি করেন—যা মূল্যবান মৌলিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও কম দামসম্পন্ন সম্পদের শনাক্তকরণ পদ্ধতি। তার শিক্ষাগুলো ভবিষ্যতের দিগ্বিজয়ীদের কৌশল গঠনে ভূমিকা রাখে, যার মধ্যে রয়েছেন ওয়ারেন বাফেট। গ্রাহামের বিনিয়োগ দর্শন অমর হয়ে আছে “দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর” বইয়ে, যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং আজও বইটি ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।
জন টেম্পলটন
ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বিনিয়োগকারী জন টেম্পলটন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন, প্রথম দিককার বৈশ্বিক বিনিয়োগের উপর আস্থাশীল ছিলেন। যখন অন্যরা বিদেশি বাজার থেকে দূরে থাকতেন, টেম্পলটন তখন বিশ্বজুড়ে সুযোগ খুঁজতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে, তিনি শত শত স্টক অত্যন্ত কম দামে কিনে নেন, যা পরবর্তীতে তাকে বিশাল সম্পদের মালিক বানায়। তার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ কৌশল “দ্য টেম্পলটন ওয়ে: দ্য প্রিন্সিপলস অব জন টেম্পলটন” বইয়ে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
থমাস রো প্রাইস জুনিয়র
থমাস রো প্রাইস জুনিয়র উচ্চ প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানিগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগের ধরন পাল্টে দেন। যখন ভ্যালু ইনভেস্টররা সস্তা মূল্যে শেয়ার খুঁজতেন, প্রাইস সম্প্রসারণের সম্ভাবনাসম্পন্ন কোম্পানি খুঁজতেন। ২০ শতকের মাঝামাঝি তিনি টি রো প্রাইস অ্যাসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠা করেন এবং উদ্ভাবনী কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে নেতৃত্ব দেন। তার বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্টগুলো আধুনিক গ্রোথ ইনভেস্টিংয়ের ভিত্তি স্থাপন করে।
জন নেফ
জন নেফ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উইন্ডসর ফান্ড পরিচালনা করে আসছেন এবং ধারাবাহিকভাবে অবিশ্বাস্য রিটার্ন প্রদান করে চলেছেন। তার সহকর্মীদের তুলনায় তিনি কম P/E অনুপাতযুক্ত ভ্যালু স্টক বেছে নিতেন, এবং জল্পনা নয়, বরং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতেন। তার নিষ্ঠাপূর্ণ কৌশল “জন নেফ অন ইনভেস্টিং” বইয়ে লিপিবদ্ধ রয়েছে, যা স্থিতিশীলতার খোঁজে থাকা ভ্যালু ইনভেস্টরদের জন্য একটি আদর্শ গাইডলাইন।
জেসি লিভারমোর
জেসি লিভারমোর নামটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিংয়ের সমার্থক। ২০ শতকের প্রথমভাগে সক্রিয় এই মার্কিন ট্রেডার স্পেকুলেশন বা জল্পনামূলক ট্রেডিং পটু ছিলেন, এবং বুল ও বিয়ার মার্কেট উভয় থেকেই লাভ করতে পারতেন। তিনি ১৯০৭ ও ১৯২৯ সালের স্টক মার্কেটের ধ্বসের পূর্বাভাস দিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন, বিশেষ করে গ্রেট ডিপ্রেশনের সময়। তার ট্রেডিং দর্শন “রেমিনিশেন্সেস অব আ স্টক অপারেটির” বইয়ে বর্ণিত রয়েছে, যা মার্কেটে তার কার্যক্রম প্রায় আত্নজীবনীমূলক বিবরণ।
পিটার লিঞ্চ
পিটার লিঞ্চ ১৯৭৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ফিডেলিটি মেগালিয়ান ফান্ড পরিচালনা করে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তার অধীনে তহবিলটির পরিমাণ $১৮ মিলিয়ন থেকে $১৪ বিলিয়নে পৌঁছে যায়। লিঞ্চ “বাই হোয়াট ইউ নো”—অর্থাৎ আপনি যা বোঝেন, তাতেই বিনিয়োগ করুন—এই ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তার অভিজ্ঞতা বিনিয়োগ বিষয়ক ক্লাসিক বই “ওয়ান আপ অন ওয়াল স্ট্রিট” এবং “বিটিং দ্য স্ট্রিট”-এ লিপিবদ্ধ আছে।
জর্জ সোরোস
হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত বিনিয়োগকারী জর্জ সোরোস ১৯৯২ সালে একমাত্র ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে সাহসী ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপে তিনি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার লাভ করেন এবং “দ্য ম্যান হু ব্রোক দ্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ড” উপাধি পান। তার “রিফ্লেক্সিভিটি থিয়োরি”, যা মার্কেট সেন্টিমেন্ট কীভাবে দামকে প্রভাবিত করে তা বিশ্লেষণ করে, বিস্তারিতভাবে “দ্য আলকেমি অব ফাইন্যান্স” বইয়ে উপস্থাপিত হয়েছে।
ওয়ারেন বাফেট
“ওরাকল অব ওমাহা” নামে পরিচিত ওয়ারেন বাফেট তার অমূল্য দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে অমূল্য কোম্পানি চিহ্নিত করার সক্ষমতার জন্য কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন। ১৯৬৫ সালে তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ কনগ্লোমারেটে রূপান্তর করেন। তিনি তার মেন্টর বেঞ্জামিন গ্রাহাম-এর নীতিগুলি অনুসরণ করে ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং স্বল্পমেয়াদি জল্পনা এড়িয়ে চলেন। তার বিনিয়োগ দর্শন শেয়ারহোল্ডার বরাবর বার্ষিক চিঠি এবং “ওয়ারেন বাফেট: হাউ টু টার্ন $৫ ইনটু $৫০ বিলিয়ন” বইয়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
জন বগল
জন বগল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্যাসিভ ইনভেস্টমেন্ট কৌশল সহজলভ্য করে বিনিয়োগ জগতে বিপ্লব ঘটান। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি, তিনি ভ্যানগার্ড গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইনডেক্স ফান্ডের পথিকৃৎ হন, যা আর্থিক জগতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। বগলের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খরচ কমিয়ে মার্কেটের গতিশীলতা অনুসরণ করা, পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা নয়। তিনি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সহজ সরল ধারণার পক্ষে ছিলেন, যা “দ্য লিটল বুক অব কমন সেন্স ইনভেস্টিং”-এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কার্ল আইকান
মার্কিন বিনিয়োগকারী কার্ল আইকান ১৯৮০-এর দশকে “কর্পোরেট রেইডার” হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন, যিনি তার আগ্রাসী বিনিয়োগ কৌশলের জন্য পরিচিত। তার কৌশল ছিল কোম্পানির বড় অংশ কিনে ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করা ও শেয়ারহোল্ডারদের মূল্য বাড়ানো। তার সবচেয়ে আলোচিত চুক্তি ছিল TWA-এর প্রতিকূল অধিগ্রহণ, যা থেকে তিনি বিপুল মুনাফা অর্জন করেন। তিনি তার খোলামেলা নেতৃত্বের ধরন ও অ্যাকটিভিস্ট ইনভেস্টমেন্ট স্টাইলের জন্য বিখ্যাত, যেটি তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করেছেন। তার বিনিয়োগ পদ্ধতি “আইকান: হাউ টু বি আ রেইডার” বইয়ে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
-
Grand Choice
Contest by
InstaForexInstaForex always strives to help you
fulfill your biggest dreams.প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করুন -
চ্যান্সি ডিপোজিটআপনার অ্যাকাউন্টে $3,000 জমা করুন এবং $8000 এর অধিক নিন!
চ্যান্সি ডিপোজিট প্রচারাভিযানে আমরা মার্চ $8000 লটারি করেছি! একটি ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে $3,000 জমা করে এই অর্থ জেতার একটি সুযোগ নিন! এই শর্ত পূরণ করে, আপনি একজন অংশগ্রহণকারী হতে পারবেন।প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করুন -
বুদ্ধিমত্তার সাথে ট্রেড করুন, ডিভাইস জিতুনআপনার অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে $৫০০ টপ আপ করুন, প্রতিযোগিতার জন্য সাইন আপ করুন এবং মোবাইল ডিভাইস জেতার সুযোগ পান।প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করুন